মতুয়া ধর্ম কি আলাদা ধর্ম

মতুয়া ভক্তদের মধ্যে বর্তমানে এই বিতর্কটি দেখা দিয়েছে যে মতুয়া ধর্ম কি আলাদা একটি স্বতন্ত্র ধর্ম নাকি এই ধর্মটি হিন্দু ধর্মের একটি শাখা ?
এই প্রশ্নটির উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের দুটি বিষয় জানতে হবে, এক) হিন্দু ধর্ম টা আসলে কি ? আর দুই ) মতুয়া ধর্মটাই বা কি ?
প্রথমে আসি হিন্দু ধর্ম প্রসঙ্গে।
হিন্দু ধর্ম বলতে প্রথমে হিন্দু ধর্মের যে বৈশিষ্ট্যের কথা মাথায় আসে সেটা হল পৌত্তলিকতা। অর্থাৎ হিন্দু ধর্ম একটি পৌত্তলিক ধর্ম। এই ধর্মের অনুসারীরা মূর্তি পূজা করে। 
কিন্তু হিন্দু ধর্মকে পৌত্তলিক ধর্ম বলতে গেলে আবার বেদের প্রসঙ্গ চলে আসে। বেদকে অনেক হিন্দু হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ বলে মনে করেন। অথচ সেই বেদে পৌত্তলিকতা বা মূর্তিপূজার কোন উল্লেখ নাই। বরং বেদে লিঙ্গ ও যোনি পূজার নিন্দা করা হয়েছে। কিন্তু এটাই হিন্দুদের অন্যতম জনপ্রিয় পূজা। বেদে যজ্ঞের কথা বলা হয়েছে, মূর্তিপূজার কথা বলা হয়নি। বেদের পূজা পদ্ধতি হল একটি অগ্নিকুণ্ড জ্বেলে তাতে নানা রকমের উপাচার উৎসর্গ করে যজ্ঞ করা। মনে হয় মূর্তিপূজাটাই বেদের রচয়িতাদের কাছে অপরিচিত ছিল বা তাদের কাছে সেটা গ্রহণযোগ্য ছিল না। হরপ্পার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখে দেখা যায় যে সেখানকার মানুষ সেই সময়ে লিঙ্গ ও যোনি পূজা করতো, উর্বরা শক্তির প্রতীক হিসেবে, যেটা বিজ্ঞানসম্মত।এটা তাদের বিজ্ঞান চেতনার পরিচায়ক। মূর্তি এখানে তাদের কাছে বিজ্ঞানের মডেলের মতো। আমার তো এটাই মনে হয়। এটা কোন অলৌকিক শক্তির প্রতীক হিসেবে তারা পুজো করতে বলে মনে হয় না। অর্থাৎ এর মধ্যে কোন অলৌকিকতার ভূত ছিল না বলে মনে হয়।
আবার দেখতে পাই, হিন্দুদের প্রধান ও সবচেয়ে বড় দেবতা হলেন শিব, হিন্দুরা যাকে দেবাদিদেব মহাদেব বলে থাকেন। বেদে কিন্তু এই শিবের কোন উল্লেখ পাওয়া যায় না। এটাই আশ্চর্য যে, শিব হলেন হিন্দুদের প্রধান দেবতা, অথচ বেদে তার কোন উল্লেখ নেই। ব্যাপারটা কি ? তাহলে বেদ কি আসলে হিন্দু ধর্মের গ্রন্থই নয় ? বেদে হিন্দু শব্দটির কোন উল্লেখ খুঁজে পাওয়া যায় না। বেদে কোথাও গ্রন্থটিকে হিন্দু ধর্মের গ্রন্থ বলে দাবি করা হয়নি বা বর্ণনা করা হয়নি। তাহলে বিষয়টা কি ? মনের মধ্যে প্রশ্ন তো জাগারই কথা। আর সেই প্রশ্নের উত্তর তো আমাদের খুঁজতেই হবে। তাহলে আসল সত্য জানা যাবে। আর সত্যকে অন্বেষণ করাই ধর্মের লক্ষ্য। আবার দেখুন মনে আরো প্রশ্ন জাগে, বেদের যারা প্রধান দেবতা, সেই ইন্দ্র বরুণ অগ্নি মিত্র -  হিন্দুরা কিন্তু এদের পুজোই করে না। অথচ বেদ জুড়ে তাদেরই স্তুতি। আবার যে শিবের স্থান হিন্দুদের হৃদয়ের মাঝে, সেই শিবের কোন উল্লেখ নেই বেদের মধ্যে। অর্থাৎ শিবের সঙ্গে বেদের কোন সম্পর্কই নেই। বেদ যদি হিন্দু ধর্মের গ্রন্থ হয় তাহলে এমনটি তো হওয়ার কথা নয়। তাহলে হিন্দুধর্ম আর বেদের ধর্ম অর্থাৎ বৈদিক ধর্ম কি আসলে আলাদা দুটি ধর্ম ? তথ্য প্রমাণ যুক্তি তো তাই-ই বলে। তাই যদি হয় তাহলে বেদে যে বর্ণবাদের ব্যাখ্যা আছে সেটা হিন্দু ধর্মের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না। সেটা বৈদিক ধর্মের বিষয়, হিন্দু ধর্মের বিষয় নয়। বেদের দশম মন্ডলে যে পুরুষসূক্তটি আছে, তাতে বলা হয়েছে, ব্রাহ্মণের জন্ম মুখ থেকে, ক্ষত্রিয়ের জন্ম বাহু থেকে, বৈশ্যের জন্ম ঊরু থেকে, আর শূদ্রের জন্ম পা থেকে। যদিও আমরা বর্তমানে সমাজে যাদের ব্রাহ্মণ পরিচয়ে জানি, নিজেদের যারা ব্রাহ্মণ বলে দাবি করে, তারা কেউই মুখ হতে জন্ম নেয়নি, তাদের জন্ম হয়েছে মায়ের গর্ভ থেকে। অর্থাৎ বেদের পুরুষসূক্ত অনুযায়ী এদের এই দাবির কোন শাস্ত্রসম্মত যুক্তি নেই, অর্থাৎ বৈদিক শাস্ত্র ব্যাখ্যা অনুযায়ী এরা ব্রাহ্মণ নয়, কারণ এদের জন্ম মুখ হতে হয়নি, এদের জন্ম হয়েছে মাতৃগর্ভ হতে। তেমনি যারা নিজেদের শূদ্র বলে মনে করেন, তারা আসলে ভুল মনে করেন। কারণ তারা কেউই পা থেকে জন্ম নেননি, তাদের জন্ম হয়েছে মায়ের পেট থেকে।  মায়ের গর্ভ থেকে যাদের জন্ম হয়েছে সে সম্পর্কে পুরুষসূক্তে কিছু বলা নেই। তাই যারা মায়ের গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছেন বেদের পুরুষসূক্ত অনুযায়ী তারা এই চতুর্বর্ণের মধ্যে পড়েন না।
তাই দেখা যাচ্ছে হিন্দু ধর্ম এবং বৈদিক ধর্মের মৌলিক পার্থক্যগুলি অনেক প্রবল এবং প্রকট। কিন্তু ভুলভাবে সমাজে হিন্দু ধর্ম এবং বৈদিক ধর্মকে একই মনে করা হয় এবং বেদকে হিন্দু ধর্মের গ্রন্থ বলে মনে করা হয়, যার কোন যুক্তি বা ভিত্তি নেই। আর এই ভুল ধারণা থেকে হিন্দুরা বৈদিক ধর্মের বর্ণবাদকে নিজেদের গায়ে মেখে কেউ ব্রাহ্মণ বা কেউ শুদ্র বলে নিজেদের মনে করছেন। এর কারণ হচ্ছে ধর্মগ্রন্থে উল্লেখিত ধর্মীয় বিধান না জানা এবং তার অর্থ না বোঝা। আর এই কারণে তারা কেউই মুখ বা পা থেকে জন্ম না নিয়েও, মায়ের গর্ভ থেকে জন্ম নিয়েও নিজেদের মধ্যে বর্ণের ভেদে ভাগাভাগি করছেন। আমরা দেখলাম সেটা আসলে একটা ভুল ধারণা। তাহলে আমরা এই আলোচনা থেকে বুঝলাম হিন্দু ধর্ম এবং বৈদিক ধর্ম সম্পূর্ণ আলাদা স্বতন্ত্র দুটি ধর্ম।
এবার আসা যাক মতুয়া ধর্ম প্রসঙ্গে।
মতুয়া ধর্ম এই নামটি এসেছে মাতামাতি করা বা মাতোয়ারা শব্দ থেকে। এটা অনেকটা ডাক নামের মতো। দার্শনিক দৃষ্টিতে মতুয়া ধর্মকে আসলে "সুক্ষ সনাতন" ধর্ম বলা হয়। সুক্ষ শব্দের অর্থ সঠিক। আর সনাতন ধর্ম বলতে আমরা প্রাচীন ভারতের ধর্মকে বুঝি। যে ধর্ম ভারতীয় সভ্যতার একদম শুরুতেই ছিল। কি সেই ধর্ম ? সেটা আমাদের খুঁজতে হবে। তাহলে আমরা সূক্ষ্ম সনাতন ধর্ম অর্থাৎ সঠিক সনাতন ধর্ম অর্থাৎ আসল সনাতন ধর্মের খোঁজ পাবো।
তাহলে চলুন আমরা সেটা খুঁজে দেখি।
বৈদিক যুগ বা বৈদিক সভ্যতা বা বৈদিক ধর্মের আগে আমরা পাই সেই সনাতন ভারতকে, সেই সিন্ধু সভ্যতার ভারতকে। হ্যাঁ প্রস্তর ব্রোঞ্জ যুগের সেই সিন্ধু সভ্যতাই ভারতের প্রাচীন সভ্যতা বলে আমরা জানতে পেরেছি। তাই সিন্ধু সভ্যতার যুগের ভারতই সনাতন ভারত। তাই এই যুগের সভ্যতাই ভারতের সনাতন সভ্যতা, এই যুগের ধর্মই ভারতের সনাতন ধর্ম, অর্থাৎ সূক্ষ্ম সনাতন ধর্ম।
তাহলে আসুন, এবার আমরা সেটাকে জানার চেষ্টা করি। 
সিন্ধু সভ্যতার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে সিন্ধু সভ্যতার সভ্যতা-সংস্কৃতি-ধর্মবিশ্বাসের আভাস পাওয়া যায়। সেই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে আমরা পেয়েছি সূর্যের প্রতীক, আমরা পেয়েছি যোগাসনে উপবিষ্ট মূর্তি, আমরা পেয়েছি নারী মূর্তি, আমরা পেয়েছি লিঙ্গ ও যোনি মূর্তি, আর পেয়েছি একটি পশুপতিনাথের মূর্তি। অনেকে পশু পরিবৃত এই মূর্তিকে আদি শিব বলেও অভিহিত করছেন। এই পয়েন্টে দাঁড়িয়ে আমরা একটু বিচার বিশ্লেষণ করবো।
বর্তমানে ঐতিহাসিকরা বলছেন সিন্ধু সভ্যতার ধর্মের সঙ্গে জৈন ধর্মের হয়তো একটি যোগসূত্র আছে। আসুন, তাহলে আমরা সেটা নিয়ে একটু আলোচনা করি।
আমরা জৈন ধর্মের প্রবর্তক হিসেবে মহাবীরকে জানি। আদপে মহাবীর হলেন জৈন ধর্মের ২৪ তম তীর্থঙ্কর। জৈন ধর্মের প্রথম তীর্থঙ্কর হলেন ঋষভনাথ বা ঋষভদেব। মহাবীর খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীর মানুষ। তার থেকে ২৪ প্রজন্ম যদি আমরা পিছিয়ে যাই অর্থাৎ ঋষভনাথের যুগে যাই, একটি প্রজন্মকে আমরা যদি গড়পড়তা ৫০ বছর ধরি, তাহলে আমরা খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দী থেকে ১২০০ বছর পিছনে চলে যাই, অর্থাৎ সেই সিন্ধু সভ্যতার যুগে গিয়ে হাজির হবো। অর্থাৎ তার মানে এটা দাঁড়ায় ঋষভনাথ সিন্ধু সভ্যতার সময়কাল বা তারও আগেকার মানুষ। তাহলে সিন্ধু সভ্যতায় প্রাপ্ত পশুপতিনাথের মূর্তিটা কি আসলে ঋষভনাথেরই মূর্তি ? সেটা হতে পারে। তার সম্ভাবনা যথেষ্ট। 
নব্য প্রস্তর যুগে কৃষি বিপ্লব ঘটে। ফলে কৃষি কাজের মাধ্যমে মানুষ শস্য উৎপাদন করতে শেখে। শস্য ক্ষেত রক্ষা ও পরিচর্যার জন্য মানুষ স্থায়ী বসতি নির্মাণ করতে বাধ্য হয়, যাযাবর খাদ্য সংগ্রাহক মানুষ খাদ্য উৎপাদক মানুষে পরিণত হয়, স্থায়ী বসতি নির্মাণ করে সভ্যতার নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করে। ফলে জঙ্গলে জঙ্গলে ঘুরে খাদ্যের জন্য পশু শিকার করার প্রয়োজন প্রায় ফুরিয়ে যায়। অর্থাৎ মানুষ আগের চেয়ে অহিংসার দিকে এগিয়ে যায়। ঠিক এই পয়েন্টে ভাবতে হবে। এই সময়ে কিছু মানুষ শস্য উৎপাদন করে স্থায়ী বসতি নির্মাণ করলেও অন্যরা অসভ্য যাযাবরই ছিল। ফলে এই অসভ্য যাযাবর মানুষ কৃষিকাজে অভ্যস্ত স্থায়ী বসতির ওপর হামলা করে তাদের ধনসম্পদ লুট করতো, তাদের হত্যা করতো, অর্থাৎ সেই অসভ্য প্রাগৈতিহাসিক যুগের জঙ্গলের নিয়মে তারা চলতো।
তখন এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ খোঁজার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। সম্ভবত যুগের সেই প্রয়োজন থেকেই আবির্ভাব ঘটে ঋষভনাথের। তিনি ছিলেন সেইসময়ের যুগপুরুষ। যুগে যুগে এরকম মানুষের আবির্ভাব ঘটে সভ্যতাকে সংকট থেকে মুক্ত করার জন্য। যেমন আবির্ভাব ঘটেছে হরিচাঁদ ঠাকুরের। যাই হোক, এই যুগে পুরুষ মানুষকে সেই সংকটের থেকে উত্তরণের রাস্তা দেখিয়েছিলেন তার নৈতিক আদর্শ প্রচারের মধ্য দিয়ে। তিনি মানুষকে হিংসা পরিত্যাগ করার কথা বলেছিলেন, অর্থাৎ প্রাণী হত্যা না করার বাণী শুনিয়েছিলেন, তিনি অন্যের সম্পদ লুণ্ঠন বা না বলে অন্যের সম্পদ গ্রহণ না করার নৈতিক বাণী শুনেছিলেন। আমরা পরবর্তীতে জৈন ধর্মের আদর্শের দিকে তাকালেই সেটা অনুমান করতে পারি। জৈন ধর্মে অহিংসা অর্থাৎ ,হিংসা না করার কথা বলা হয়েছে। প্রাণী হত্যা না করার কথা বলা হয়েছে। জৈন ধর্মে অপরিগ্রহের কথা বলা হয়েছে। অপরিগ্রহ অর্থাৎ না বলে অন্যের সম্পদ না নেওয়া। জৈন ধর্মের এই নৈতিক আদর্শ এবং নব্য প্রস্তর যুগের সেই সংকটের থেকে উত্তরণের ধারণাকে মেলালে আমরা বুঝতে পারি জৈনরা তাদের প্রথম তীর্থঙ্কর, তাদের ধর্ম প্রবর্তক যে ঋষভনাথের কথা বলেন, সত্যিই তার সঙ্গে ঐতিহাসিক সত্যতা ও বাস্তবতার যোগসূত্র আছে। জৈনরা মনে করেন, ঋষভনাথ ছিলেন অনেক প্রাচীন যুগের মানুষ।
আমরা ঋষভনাথের প্রবর্তিত এই নৈতিক আদর্শ গুলিকে সনাতন ধর্ম বিশ্বাসের সূচনা বলে মনে করতে পারি। তাই যদি হয়, তাহলে বলতে হবে তিনি তার সনাতন শিক্ষার মধ্য দিয়ে এদেশের মানুষকে সভ্যতার পথ দেখিয়েছিলেন, সভ্যতার পথে চলতে শিখিয়েছিলেন। ঋষভনাথের এই সনাতন শিক্ষা পরবর্তীকালে আরও ২৩ জন তীর্থঙ্করের মধ্য দিয়ে জৈন ধর্মের রূপ পায়। এটাই হলো আসল সনাতন ধর্ম অর্থাৎ হরিচাঁদ ঠাকুরের সুক্ষ সনাতন ধর্ম।
ঋষভনাথ > ঋশিবনাথ > ঋ - শিব - নাথ > শিব।
অর্থাৎ ভাষাগত এই বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে বোঝা যায় উচ্চারণের তারতম্যের ফলে "ঋষভনাথ" একসময় "শিব" হয়ে যান। এটা যে কোন ভাষার স্বাভাবিক নিয়ম। অর্থাৎ হিন্দুদের উপাস্য শিব আসলে সনাতন ধর্মের প্রবর্তক ঋষভনাথ। তখনও বৈদিক ধর্মের আবির্ভাব ঘটেনি। তাই এই ঋষভনাথ বা শিবের সঙ্গে বেদ বা বৈদিক ধর্মের কোন সম্পর্ক নেই। কিন্তু যখন বৈদিক ধর্ম এ দেশে প্রবেশ করল তখন শিবের সনাতন ধর্ম বা শিব তাদের কাছে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ালো। শিবের প্রতি এদেশের মানুষের শ্রদ্ধা এতটাই ছিল যে বৈদিক ধর্মাবলম্বী শাসকেরা শিবকে অস্বীকার করতে বা মুছে ফেলতে পারেনি, কিন্তু মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে বিভিন্নভাবে। পরবর্তীকালে তারা বিভিন্ন পুরাণ গ্রন্থ লিখে সিন্ধুর নগর সভ্যতার প্রতিভূ শিবকে শ্মশানে পাঠিয়ে দিয়েছে তাদের তৈরি মনগড়া গল্পের মাধ্যমে। তার গায়ে ছাই মাখিয়ে, হাতে গাঁজার কলকে ধরিয়ে তাকে শ্মশানচারী বানিয়ে দিয়েছে। এটা ছিল সভ্যতার আলোকবৃত্ত থেকে, মানুষের মন থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়ার একটা চক্রান্ত। কিন্তু তবুও তারা সেখানে সফল হয়নি। কিন্তু সনাতন সত্যের উপরে তারা একটা পর্দা বা ছাইয়ের আস্তরণ দিয়ে ঢেকে দিতে সক্ষম হয়েছে। সেই সনাতন সত্যকে আবার কালের গর্ভ থেকে তুলে এনে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করে সকল ভেদবাদের ঘৃণার তত্ত্বকে সরিয়ে মানব সভ্যতার মানবিক গৌরবকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার জন্যই আবির্ভাব ঘটল হরিচাঁদ ঠাকুরের। তিনি প্রচার করলেন সূক্ষ্ম সনাতন ধর্মের, অর্থাৎ আসল সনাতন ধর্মের।
বাই মতুয়া ধর্ম আলাদা ধর্ম - এই কথা না বলে মতুয়া ধর্ম আসল সনাতন ধর্ম - এই কথা বলাই অধিক যুক্তিযুক্ত এবং যথার্থ।

লেখক - প্রণব মন্ডল, মছলন্দপুর

Comments

Popular posts from this blog

মতুয়াসঙ্গীত